মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

গাঁয়ের কনে

চৈতালী হাওয়ায় উড়ছে তোমার চুল
আজ তুমি পড়েছ দু কানে দুটি দুল
কপালে দিয়েছ নীল রঙ্গা টিপ
মুখেতে তোমার হাসি
নদীর পাড়ে সুর তুলে যায়
নয়ন রাখালের বাঁশি।

চাহনিতে তোমার স্বপ্ন খেলে
মন কি যে চায় বল
বুঝতে পারি না সেখানে আছে
কি আঁধার নাকি আলো।

সময় অসময় তুমি আস যে ফিরে
রাখাল বালকের মনে
পড়বে কি তুমি গলায় মালা
ওগো গাঁয়ের কনে। 

© ফয়সাল বিন হাফিজ

শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০১০

"আমি তোমাকে ভালবাসি..........................."

সময়টা মনে নেই কবে ছিল,কোনো একদিন সকালে। তখন ক্যাম্পাস বনানী তে। দুই ক্লাসের মধ্যে একটা লম্বা সময় ব্রেক। হঠাৎ লাইব্রেরীতে বসা অবস্থায় কি মনে হল যে আমি আজ ওর সাথে দেখা করব, যেই ভাবা সেই ফোন করা। ৩-৪ বার ফোন দেওয়ার পরও ঐ পাশ যখন থেকে ধরল না,আমি ভাবলাম ও ক্লাসে। তাড়াতাড়ি লাইব্রেরী থেকে নেমে একটা রিকশা নিয়ে গেলাম ওর ভার্সিটিতে। মাঝ রাস্তায় যাওয়ার পর ফোন ধরল ওর ছোট বোন। বলল, "আপ্পি আজ ভুল করে মোবাইল বাসায় রেকে গেছে।" আমি ভাবতে থাকলাম এখন ওর ভার্সিটিতে যেয়ে ওকে কিভাবে পাই আর যেহেতু রওনা দিয়ে দিয়েছি এখন ফেরত যেয়েই বা লাভ কি, আগে যাই তারপর দেখা যাবে কি হয়। অতঃপর পৌঁছালাম এবং ওখানে যেয়ে আমি যেেখখানে অপেক্ষা করি সেখানে কিছু সময় বসলাম। প্রায় দশ মিনিট পর মনে হল ও যেহেতু লাইব্রেরীতে জব করে ওখানে যেয়ে ওকে খুঁজে দেখি। এই ভেবে লাইব্রেরীতে যাওয়ার জন্য সিঁড়িতে উঠব আর ঐ সময়ে ওর সাথে দেখা হয়ে গেল। আর লাইব্রেরী পর্যন্ত উঠা লাগল না। ভাবছিলাম হয়ত নিয়তিতে লেখা ছিল বলেই ঐ দিন ওর সিথে দেখা হয়েছিল, এরপর আমরা ওর ভার্সিটিতে যেখানে সবসময় বসি সেখানে গিয়ে বসলাম ও কিছু সময় কথা বললাম। সেদিন কি কি কথা হয়েছিল তা আজ আর মনে নেই। এরপর ও বাসায় চলে গেল আর আমি ভার্সিটি চলে আসলাম।
আজ অনেকদিন কথা হয় না ওর সাথে,ভুল করেও একবার নাম্বার ডায়াল করি না, ও ও করে না। এইটাও কি আমার নিয়তি নাকি আমাদের .....। জানি না, আমি আসলেই জানি না এই নীরবতার অর্থ, কি মানে এভাবে নিশ্চুপ থাকার। এতদিন কবিতায় বলেছি,আজ কোনো মাধ্যম নয়। আজ সরাসরি বলছি, "আমি তোমাকে ভালবাসি..........................."।

তুমি আমার...

: এই শুনছ...
: বল, শুনছি তো।
: ভুলে গেছো আমায় ?
: তোমায় ভোলা যায় কি.........?
: তবে,তবে এত দূরে দূরে থাকা কেন
: চিঠিও দাও না কতদিন হল
: জানোইতো কত ব্যস্ত থাকতে হয় আমায়।
চাকরী, সংসার আরো কত কি...
: আমি বুঝি ব্যস্ত থাকি না...?
: তোমার আবার ব্যস্ততা কিসে?
: সারাদিনতো শুধু ঐ লেখালেখি
বিয়েটাও করলে না শেষ পর্যন্ত,
এখনো সময় আছে বৈকি,
দেখবো নাকি পাত্রী?
: না! এই বুড়ো বয়সে এসে
নতুন করে আর কাউকে স্বপ্নের জাল ছড়াতে দিতে চাই না।
: কি ই বা বয়স তোমার, সবে মাত্র আটচল্লিশ,
পুরুষ মানুষের এটা কোন বয়স হল...
: তুমি যে কি বল না
এখন কি আর মনে প্রেম আছে...?
: আছে, আছে এখনো যে দমে
প্রেমের কবিতা লিখে বেড়চ্ছ...
: বাহ রে... ওগুলো তো শুধু একজনের জন্য ই।
: কে সে?
: তুমি জান না???
: এখনো......?
: হা।
: কিন্তু কেন, কি পাও ওগুলো লিখে?
: সুখ, এক চরম সুখ...
: এবার থামো।
: তুমি বললেই......?
: ও, আমি কে, আমার কথা শুনবে কেন?
: তুমি.........
তুমি আমার প্রেম
তুমি আমার বাল্যবেলা
তুমি আমার সাতরং
তুমি আমার চলমান কবিতা.........

হঠাৎ চোখে জল...!

; আজ তবে আসি...?
: চলে যাবে...?
: যেতে যে আমাকে হবেই.........
: তবে যাও...
শুন, ভালো থেকো।
: তুমিও ভালো থেকো
তোমার একাকী নিরালায়।

৩১।০৮।২০১০

© ফয়সাল বিন হাফিজ